রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৬

প্রেম আর ফুলের জীবন কাহিনী (প্রথম পর্ব)

ছেলেটির নাম প্রেম। 
মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তার। 
ছোট একটি গ্রামে তার বাড়ি। 
গ্রামের নাম (নওতা)জেলা শহর থেকে একবারে শেষের উনিয়ানে।

চলুন প্রেমের পরিবারে সমর্পকে কিছু যেনে নেই।
প্রেমঃ বাবা ৫০০ টাকা লাগবে?
বাবাঃ ___ কেনো?
'
প্রেম:- হাত খরচের জন্য।।
বাবা পকেট থেকে বের করে দিলো!!
কিছু দিন পর!!
প্রেম:- বাবা, ৩৫০ টাকা লাগবে!
বাবাঃ ___ কেনো?
.
প্রেম:-নেট নিবো তাই ।
বাবাঃ ___তোর মার কাছ থেকে নিস ।
আবার কিছু দিন পর।
প্রেম:- বাবা টাকা লাগবে।
বাবাঃ ___ কেনো?
.
প্রেম:- বন্ধুরা সবাই পিকনিক করবো বাবাঃ ___ নিস পরে।।
প্রেম:- না না!! এখনই দাও
বাবা পকেট হাতড়ে কিছু টাকা পেলো এবং দিলো ।।
তার কিছু দিন পর
প্রেম:- বাবা বই কিনতে হবে, টাকা দাও।
বাবা খুশি হয়ে,
বাবাঃ ___ কতো লাগবে?
প্রেম:- 2000 টাকা
বাবাঃ ___এতো টাকা ??? (বাড়িয়ে বলল।। বাকিটা তার)
প্রেম মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে ।
তাদের এতো চাহিদা থাকতে নেই, তবুও তৈরী হয়ে যায় আর এই সব চাহিদা পূরন করছে একা মানুষটি যার
নাম বাবা ।।
.
. এমন অনেক হয়েছে বাসায়
ঢুকছে, তখন বাবা -মা কথা বলছে
বাবাঃ "ছেলেটির বই কিনে দিতে হবে, আবার তোমার ডাক্তার!! "
মা কোন দ্বিধা ছাড়াই আমার বই আগে কিনতে বলে!!
পরে বাবা টাকা ম্যানেজ করে বই,
ডাক্তার দুইটারই ব্যাবস্থা করে।।
. .
ঈদের মার্কেট করার সময় মা, বাবাকে কিছু নিতে বলে।
নেয় না,
শুধু বলে : আমার তো জামা আছে, এইটা দিয়েই চলে যাবে । পাছে আমাদের জামা - কাপড় কিনতে টাকার
শর্ট পরে তাই!!
.
[নিজে ৩ বছর পুরাতন জামা পড়ে কিন্তু আমাদের ৬মাস পরপর জামা প্যান্ট কিনে দেয় ]
.
.
.
এতোকিছুর পরও বাবার সাথে খারাপ
ব্যাবহার করে ফেলি মাঝে মাঝে !!
বুঝতে পারি পরে,
আসলেই বড় ভুল করে ফেলি।।
"মাথার উপর একটা বটগাছ আছে তো তাই বুঝি না"
প্রেমের বয়স এখন প্রায় ১৭ বছরের মতো। এস এস সি পরিক্ষার্থী। পরিক্ষা দিয়ার জন্য তাকে শহরে যেতে হবে। তাই তার বাবা তার জন্য একটা ম্যাচের ব্যাবস্থা করে দিলেন তাদেরই উনিয়ানের প্রাপ্তন চেয়ারম্যান এর বাসা। প্রেমের সংগে সংঙি হলো তার এক বেস্ট ফ্রেন্ড হৃদয়। (আর হৃদয়ের দাদী কারন তিনি রান্নাবারা করে দিবেন তাই তারা দাদীকে সংগে নিলেন।) তারা নিয়ম মাফিক পরিক্ষার ঠিক দু'তিন দিন আগে তাদের ম্যাচে গিয়ে উঠে। তারা যেই রুমে উঠে সেইটা একটা বৌটক খানা। বৌটকখানার ছিল দুইটা দরজা একটা বাসার ভিতরের দিকে আর একটা বাহিরের দিকে। দু দরজাই ব্যাবহার করা যায়। যাই হোক, প্রেমের বাবা মার অনেক বড় আশা ছেলে কে সেনাবাহিনীতে দিবেন কারন প্রেমের ছোট মামা সেনাবাহিনী তে আছেন। কিন্তু প্রেম আসলে লেখাপড়াই তেমন ভাল ছিল না। তাই পরিক্ষার আগের রাতে প্রেমের মনে বিষনয়তা। তারপর ও রাতের পড়ালেখা শেষ করে রাতে তারা ঘুমে পড়ে কারন সকালে তাদের পরিক্ষা। তখন ঠিক সকাল ৬টা কি ৬.৩০ মিনিট হবে দাদীর ডাকা ডাকিতে তাদের ঘুম ভাংলো। তারাতারি তৈরি হয়ে দাদীকে সালাম করে প্রেম আর হৃদয় পরিক্ষা দিয়ার জন্য বেরিয়ে পরলো। তাদের জীবনের প্রথম বোড পরিক্ষা। সৃষ্টিকর্তার অশেষ করুনাই তাদের পরিক্ষা মোটামুটি ভালোই হলো। পরিক্ষা শেষ করে প্রেম আর হৃদয় রেল লাইনের পাশ দিয়ে হাটছিলো এমন মুহূর্তে পাগলের মতো ছুটে এলো প্রেমের বাবা। ছেলেকে বুকের মদ্ধে জরিয়ে নিলেন বাবা। আবেগে তারা দু'জনেই কেঁদে ফেললো। বাপ ছেলের কথোপকথন শেষ করে তার বাবা ব্যাক্তি গত কাজ থাকায় বিদাই নিলেন। তারাও দুই বুন্ধু তারদের ম্যাচের দিকে রওনা দিলো। বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে পড়তে বসলো দুই বুন্ধু।  এভাবেই তাদের বেশ কয়েক দিন কেটে গেলো তাদের। এমতাবস্থায় এক দিন তারা পরিক্ষা দিয়ে বাসায় এসে তাদের পোশাক পরিবর্তন করছিল এমন সময় তাদের রুমের বাহিরের দরজা দিয়ে একটা অপরিচিত মেয়ে প্রবেশ করল। প্রেম তখনও পোশাক পরিবর্তন করছিলো। মেয়েটা নির্লজ্জভাবে তাদের রুম ক্লোস করে ভিতরের দরজা দিয়ে চেয়ারম্যানের বাসার ভিতর প্রবেশ করলো। প্রেমদের কোন অনুমিতর অপেক্ষায় রইলো না মেয়েটি। এই বিষয়টা প্রেমের মনে কেমন যেন হচট খেলো।  তাই সেখানে কিছু না বলে বিকালের দিকে চেয়ারম্যানের ছোট ছেলে সামিম ভাইয়ের কাছে গেল তারা দুই বুন্ধু প্রেম আর হৃদয়। পরে সামিম ভাইয়ের থেকে তারা জানতে পারলো। সেই মেয়েটি না কি লাস্ট ইয়েরস এই বাসায় থেকে এস এস সি পরিক্ষা দিয়েছিলো। এখন সে ইন্টারমিডিয়েট ফাস্ট ইয়েরে পড়ে। মেয়েটির নাম নাকি ফুল (ছদ্দ নাম) প্রেমের মনে কেমন জানি হলো। সে সামিম ভাইয়ের থেকে মেয়েটির মোবাইল নং টা নিয়ে হৃদয়ের মোবাইলে সেফ করে নিলো। এভাবেই পরিক্ষা চলতে চলতে মেয়েটির কথা ভুলেই গেল প্রেম।
এভাবেই চলতে চলতে সময়ের ঘুরনি পাকে তাদের পরিক্ষা শেষ হয়ে গেল। এবার বাড়ি ফিরার পালা। সকল জিনিশপত্র গারীতে তুলে তারা বিদাই হলো।


0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন