আসসালামুয়ালাইকুম, কেমন আছেন সবাই? হ্যাঁ আল্লাহ তালা আপনাদের সবাইকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভাল এবং সুস্থ রাখুক। এই দোয়াই রইলো সবার জন্য।
আজ ২১/১১/২০১৭ মঙ্গলবার,
ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হইছে বলতে পারেন অফিসে কাজের চাপ না থাকায় একটু লেট করেই উঠলাম। তারপরও সুকাল নয়টার আগেই উঠছি। সকালে অফিস গিয়ে হাতের কাজ কিছু ছিল তা শেষ করতে প্রায় সকাল ১০টা বেজে গেলো। কাজ শেষ করে অফিসের চেয়ারেই বসে আছি মনটা খুব একটা ভাল লাগছে না। কি জানি কেমন কেমন লাগছে। হটাত করে মোবাইলে একটা অচিনা বাংলাদেশী নং থেকে ম্যাসেজ আসলোঃ-
VAIYA CHOTO MAMAKE AKTA CALL DAN. EMERGENCY.
ম্যাসেজটা পড়েই মনের ভিতর কেমন যেনো ছাঁৎ করে উঠলো। আসলে আমরা যারা অভিবাসী তাদের মন সব সময় উতালা হয়ে থাকে। তাই বুঝতে আর বাকি থাকলো না কি খবর শুনতে হবে। যে নং থেকে ম্যাসেজ আসলো আগে সেই নং কল দিলাম ভাবলাম হইতো কেউ মজাও করতে পারে। কিন্তু কল ঢুকলো না নং টা বন্ধ তাই ছোট মামার নং টাতে কল দিলাম কিন্তু সেটাও রিচিভ হচ্ছে না পরে ছোট ভাইয়ের টাতে কল দিলাম কিন্তু আজব সেটাও রিচিভ হচ্ছে না। তখনই আমি অফিস থেকে বের হয়ে বাহিরে গেলেম অফিসের পিছনে একটা ফাকা যায়গাতে। আমার পা কাঁপছে বুকের ভিতর কে যেন হাতুড়ী দিয়ে ঘা দিতেছে মনে হচ্ছে কলিজাটা ছিটে বাহিরে বের হয়ে আসবে।
এমন কল দিতে দিতে প্রায় ১১ টা বাজে। শেষে মনে হলো আম্মার মোবাইলে কল দেই। কিন্তু আজব কল রিচিভ হয় না। এক বার দু'বার তিন বার এমন করে বার বার কল দিয়ার পরও রিচিভ না হওয়াতে মনটা আরো খারাপ হতে থাকলো পা যেনো অবশ হয়ে আসতেছে আর দাড়িয়ে থাকতে পারছি না। বার বার কল দিতে থাকলাম অনেকক্ষণ পর কল রিচিভ হলো। ওপার থেকে কান্না ভরা কন্ঠ ভেসে এলো, কিন্তু যে কন্ঠটা হওয়ার কথা ছিল সেটা নই। কান্না ভরা কন্ঠে একটা কথাই বললো আমি কি নিয়ে বাঁচবো আমার আর যে কেউ রইলো না........................ কন্ঠটা ছিল আমার আব্বার।
তাহলে আমার মা........................... না না এসব আমি কি ভাবছি? এ হতে পারেনা।
আমি আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না সমস্থ সরিল অবশ হয়ে গেলো। ধপ করে বসে পরলাম। আমি যে আর কিছু ভাবতে পারছি না। কিছু বুঝতেও পারছি না। কি হইছে কেউ কিছু বলে না আমাকে। আবার কল দিলাম রিচিভ হয়না। কয়েক বার কল দিয়ার পর আমার চাচি আম্মা রিচিভ করে বলে দোয়া কর বাবা কেউ চিরদিন থাকে না। বলেই কল কেটে দিল। আমার সরিল আরো অথর হয়ে গেলো। কি বলে ওরা সবাই ? কার কি হইছে? কেউ কেন আমায় কিছু বলে না কানো?
হটাত করে মনে হলো কি ব্যাপার এটা তো আমার আম্মার মোবাইল ওরা কানো রিচিভ করে সবাই এমন করে কথা বলছে কেনো? তাহলে কি?............ আমি আর ভাবতে পারছি না। প্রশান্ত মহাসাগরে যেন সুনামির আভাস দিচ্ছে কিন্তু আমাকে শক্ত হতে হবে তা না হলে ওরা কেউ আমার কাছে সত্যটা বলবে না।
আমি আবার কল দিলাম আম্মার নং এবার ও আব্বা রিচিভ করলো কিন্তু আমি আর কান্না চাপা দিতে পারলাম না। কান্না ভরা কন্ঠেই জিজ্ঞাস করলাম কি হইছে তখন আব্বা পাগলের মত প্রলাবের মত বলতে লাগলেনঃ- তর মা আর নাই বাবা আমাদের এতিম বানিইয়ে চলে গেছে।
আমার মাথাই আঁকাস ভেঙ্গে পড়লো চারেদিকে অন্ধকার হয়ে গেল। আমার কথা বলার ভাষা টা হারিয়ে ফেলেছি। পাথর হয়ে বসে তাকলাম। ভাবার শক্তিটা ও হারিয়ে ফেলেছি। আমার ঠিক মনে নাই কতক্ষন বসে ছিলাম। হটাত করে হুশ ফিরে পেলাম। তখন মনে পরে গেল আল্লাহর রাসুল ( ) এটা হাদিস।
তোমাদের আপন জনের মৃত্যুতে তোমরা বিলাপ করে কেঁদো না। এতে আল্লাহর সাথে জ্বেহাদ করা হয়। কারন তোমাদের বলাতে আল্লাহ তালা তাকে দুনিয়াতে পাঠাই নাই আর তোমাদের অনুমতিতেও নিবে না তাহলে তোমরা কান তার সিদ্ধান্ত তে খুশি নও?
কিন্তু আমি অনেক চেষ্টা করেও স্তির থাকতে পেলাম না। বুকটা ফেটে অঝোরে কান্না চলে এল। চিৎকার করে উঠলাম। আজ প্রায় ১০বছর হয়ে গেলো মায়ের আদর পাই নাই। মাকে সামনে থেকে মা বলে ডাকতে পারি নাই। মায়ের শীতল আঁচলের নিচে মমতার ছায়া পাই নাই। মায়ের সামনে বসে কত দিন মায়ের হাতের বানানো খাবার খেতে পারি নাই। মাকে কোন দিন বলতে পারি নাই মা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। মা তুমি যে আমার বেহেশত। সারা জীবন নামাযে বসে দোয়া করতাম "হে আল্লাহ তুমি আমার বাবা মাকে এতো বড় হায়াত দাও আমি যেন আমার মৃতর আগ মহুত পরযুন্ত আমার বাবা মায়ের পদ শেবা করতে পারি। যদি দরকার হয় আমার হায়াত ও তাদের দাও। কিন্তু আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করে নাই। তিনি মহান তিনিই ভাল বুঝেন। কত আশা ছিল আর মাত্র দু'মাস পর দেশে যাব মাকে মা বলে ডাকবো। দু'নয়ন জুড়ে মাকে দেখবো। কিন্তু তা আর হলো না।
এসব ভাবতে ভাবতে কান্নায় কলিজাটা মনে হয় ফেটে যাচ্ছে। এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে অফিসে ডুকলাম ফলোরে বসে চিৎকার করে কাঁদতে থাকলাম এমন অবস্থা দেখে আমার উপরস্থ বস জিজ্ঞাস করলো কি হইছে আমি তাকে কোন রকমে বললাম আমার এতিম হওযার কথা। সে আমাকে সান্তনা দিবার বৃথা চেষ্টা করলো।
এভাবে বেশ কিছুক্ষন জাবার পর আমি বসকে বললাম আমি এখনিিই দেশে যাব আপনে বাবস্থা করুন। কিছুক্ষন পর বস বলতেছেন আমি দেখতেছি। এরপর আমি নিজের রুমে এসে শুয়ে শুয়ে জীবনের হারানো দিনগুলি মনে করছিলাম আর ভুলের মাশুল হিসাবে এতো বড় সেক্টিভাই করতে হলো।
এরপর অনেক চেষ্টার পর ফ্লাইট সময় নির্ধারণ করা হলো বিকাল ৩.৩০মিনিট। অনেক অপেক্ষার পর বাংলাদেশে পুঁছলাম অনেকটার পাথরের মত।
এয়ারপোটে পুঁছে চাচাতো ভাই রিচিভ করে নিয়ে আসলো ঢাকা থেকে বাড়ি যাও্যার বাবস্থা হলো এম্বুলেসে। দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে ১০ঘন্টা পর পুঁছলাম বাড়িতে।
কিন্তু তখন সব কিছু ফাঁকা। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু কাঁদি নাই। মন কে অনেক শক্ত করেছি আর বার বার সেই হাদিসটা শরন করছি। আমি জানি সবাই অন্য কিছু ভাবতেছে। ভাবুক তাতে আ,আর কি আমি আল্লাহ তালার কাছে সব কিছুর ভার দিছি। আমি জানি আমি কি হারিয়েছি।
আমি যখন ছোট ছিলাম সবাই বলতো আমি নাকি মায়ের পাগল ছিলাম। মা যেখানে যাইতো আমি ও সেখানে। মাকে ছেড়ে কোন দিন একা থাকি নাই। আর যখনি একা থাকতে শুরু করলাম তখনি মাকে হারালাম। সবাই মজা করে বলতো বিয়ের পর নাকি আমি মাকে নিয়ে নিয়ে শুশুর বাড়ি যাব। কিন্তু এখন????????? আমি কি করবো?
বাড়ি যাও্যার পর কেউ আমার মাকে দেখতে দেই নাই। পরের দিন সকালে মাকে শেষ দেখা দেখলাম কিন্তু মা আমাকে দেখতে পেলো না। জানি মা আমাকে দেখছে কিন্তু মায়ের মমতা পেলাম না। সবই আমার নিয়তি। হয়তোবা আল্লাহ এটাই ভাল মনে করছেন। আমি তাতেই আলহামদুল্লিলাহ।
তারপর মায়ের সকল আখেরী কাজ শেষ করে পুনুরাই ফিরে এলাম সেই অভিবাসে। যেখানে শুধুই কস্ট আর কস্ট।
এখন শুধু একটা ছন্দই মনে পরে বারবারঃ-
মা তুমি কি জিনিষ ,
বিশাল এ ভূবনে।
যখন দেখি তোমার মুখ,
দুঃখ থাকে না মনে।
মা তুমি অমর হয়ে থাক,
মোর জীবনের তরে।
ক্ষনিকের জন্য মা তুমি'
কাদাইও না মোরে।
তুমি যদি মোরে যাও মা,
কাঁদব দিবা নিশি।
এ ভূবনে দেখব না আর,
তোমার মুখের হাঁসি।
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি,
এতিম হয়ে কাঁদব।
মা মা বলে তোমায়,
বারে বারে ডাকবো।
উত্তর তুমি দিবেনাতো,
থাকবে আমায় ভুলে।
নিজ গুনে ক্ষমা কর মা,
ছিলাম তোমার কোলে।

0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন