শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

আমার অমূল্য রতন হারিয়ে ফেলেছি নিজের অজান্তে।


আসসালামুয়ালাইকুম, কেমন আছেন সবাই? হ্যাঁ আল্লাহ তালা আপনাদের সবাইকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভাল এবং সুস্থ রাখুক। এই দোয়াই রইলো সবার জন্য।

আজ ২১/১১/২০১৭ মঙ্গলবার,
ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হইছে বলতে পারেন অফিসে কাজের চাপ না থাকায় একটু লেট করেই উঠলাম। তারপরও সুকাল নয়টার আগেই উঠছি। সকালে অফিস গিয়ে হাতের কাজ কিছু ছিল তা শেষ করতে প্রায় সকাল ১০টা বেজে গেলো। কাজ শেষ করে অফিসের চেয়ারেই বসে আছি মনটা খুব একটা ভাল লাগছে না। কি জানি কেমন কেমন লাগছে। হটাত করে মোবাইলে একটা অচিনা বাংলাদেশী নং থেকে ম্যাসেজ আসলোঃ- 
VAIYA CHOTO MAMAKE AKTA CALL DAN. EMERGENCY.

ম্যাসেজটা পড়েই মনের ভিতর কেমন যেনো ছাঁৎ করে উঠলো। আসলে আমরা যারা অভিবাসী তাদের মন সব সময় উতালা হয়ে থাকে। তাই বুঝতে আর বাকি থাকলো না কি খবর শুনতে হবে। যে নং থেকে ম্যাসেজ আসলো আগে সেই নং কল দিলাম ভাবলাম হইতো কেউ মজাও করতে পারে। কিন্তু কল ঢুকলো না নং টা বন্ধ তাই ছোট মামার নং টাতে কল দিলাম কিন্তু সেটাও রিচিভ হচ্ছে না পরে ছোট ভাইয়ের টাতে কল দিলাম কিন্তু আজব সেটাও রিচিভ হচ্ছে না। তখনই আমি অফিস থেকে বের হয়ে বাহিরে গেলেম অফিসের পিছনে একটা ফাকা যায়গাতে। আমার পা কাঁপছে বুকের ভিতর কে যেন হাতুড়ী দিয়ে ঘা দিতেছে মনে হচ্ছে কলিজাটা ছিটে বাহিরে বের হয়ে আসবে। 

এমন কল দিতে দিতে প্রায় ১১ টা বাজে। শেষে মনে হলো আম্মার মোবাইলে কল দেই। কিন্তু আজব কল রিচিভ হয় না। এক বার দু'বার তিন বার এমন করে বার বার কল দিয়ার পরও রিচিভ না হওয়াতে মনটা আরো খারাপ হতে থাকলো পা যেনো অবশ হয়ে আসতেছে আর দাড়িয়ে থাকতে পারছি না। বার বার কল দিতে থাকলাম অনেকক্ষণ পর কল রিচিভ হলো। ওপার থেকে কান্না ভরা কন্ঠ ভেসে এলো, কিন্তু যে কন্ঠটা হওয়ার কথা ছিল সেটা নই। কান্না ভরা কন্ঠে একটা কথাই বললো আমি কি নিয়ে বাঁচবো আমার আর যে কেউ রইলো না........................ কন্ঠটা ছিল আমার আব্বার।
তাহলে আমার মা........................... না না এসব আমি কি ভাবছি? এ হতে পারেনা।

আমি আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না সমস্থ সরিল অবশ হয়ে গেলো। ধপ করে বসে পরলাম। আমি যে আর কিছু ভাবতে পারছি না। কিছু বুঝতেও পারছি না। কি হইছে কেউ কিছু বলে না আমাকে। আবার কল দিলাম রিচিভ হয়না। কয়েক বার কল দিয়ার পর আমার চাচি আম্মা রিচিভ করে বলে দোয়া কর বাবা কেউ চিরদিন থাকে না। বলেই কল কেটে দিল। আমার সরিল আরো অথর হয়ে গেলো। কি বলে ওরা সবাই ? কার কি হইছে? কেউ কেন আমায় কিছু বলে না কানো?

হটাত করে মনে হলো কি ব্যাপার এটা তো আমার আম্মার মোবাইল ওরা কানো রিচিভ করে সবাই এমন করে কথা বলছে কেনো? তাহলে কি?............ আমি আর ভাবতে পারছি না। প্রশান্ত মহাসাগরে যেন সুনামির আভাস দিচ্ছে কিন্তু আমাকে শক্ত হতে হবে তা না হলে ওরা কেউ আমার কাছে সত্যটা বলবে না। 

আমি আবার কল দিলাম আম্মার নং এবার ও আব্বা রিচিভ করলো কিন্তু আমি আর কান্না চাপা দিতে পারলাম না। কান্না ভরা কন্ঠেই জিজ্ঞাস করলাম কি হইছে তখন আব্বা পাগলের মত প্রলাবের মত বলতে লাগলেনঃ- তর মা আর নাই বাবা আমাদের এতিম বানিইয়ে চলে গেছে।

আমার মাথাই আঁকাস ভেঙ্গে পড়লো চারেদিকে অন্ধকার হয়ে গেল। আমার কথা বলার ভাষা টা হারিয়ে ফেলেছি। পাথর হয়ে বসে তাকলাম। ভাবার শক্তিটা ও হারিয়ে ফেলেছি। আমার ঠিক মনে নাই কতক্ষন বসে ছিলাম। হটাত করে হুশ ফিরে পেলাম। তখন মনে পরে গেল আল্লাহর রাসুল ( ) এটা হাদিস।  
তোমাদের আপন জনের মৃত্যুতে তোমরা বিলাপ করে কেঁদো না। এতে আল্লাহর সাথে জ্বেহাদ করা হয়। কারন তোমাদের বলাতে আল্লাহ তালা তাকে দুনিয়াতে পাঠাই নাই আর তোমাদের অনুমতিতেও নিবে না তাহলে তোমরা কান তার সিদ্ধান্ত তে খুশি নও?

কিন্তু আমি অনেক চেষ্টা করেও স্তির থাকতে পেলাম না। বুকটা ফেটে অঝোরে কান্না চলে এল। চিৎকার করে উঠলাম। আজ প্রায় ১০বছর হয়ে গেলো মায়ের আদর পাই নাই। মাকে সামনে থেকে মা বলে ডাকতে পারি নাই। মায়ের শীতল আঁচলের নিচে মমতার ছায়া পাই নাই। মায়ের সামনে বসে কত দিন মায়ের হাতের বানানো খাবার খেতে পারি নাই। মাকে কোন দিন বলতে পারি নাই মা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। মা তুমি যে আমার বেহেশত। সারা জীবন নামাযে বসে দোয়া করতাম "হে আল্লাহ তুমি আমার বাবা মাকে এতো বড় হায়াত দাও আমি যেন আমার মৃতর আগ মহুত পরযুন্ত আমার বাবা মায়ের পদ শেবা করতে পারি। যদি দরকার হয় আমার হায়াত ও তাদের দাও। কিন্তু আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করে নাই। তিনি মহান তিনিই ভাল বুঝেন। কত আশা ছিল আর মাত্র দু'মাস পর দেশে যাব মাকে মা বলে ডাকবো। দু'নয়ন জুড়ে মাকে দেখবো। কিন্তু তা আর হলো না। 
এসব ভাবতে ভাবতে কান্নায় কলিজাটা মনে হয় ফেটে যাচ্ছে। এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে অফিসে ডুকলাম ফলোরে বসে চিৎকার করে কাঁদতে থাকলাম এমন অবস্থা দেখে আমার উপরস্থ বস জিজ্ঞাস করলো কি হইছে আমি তাকে কোন রকমে বললাম আমার এতিম হওযার কথা। সে আমাকে সান্তনা দিবার বৃথা চেষ্টা করলো। 

এভাবে বেশ কিছুক্ষন জাবার পর আমি বসকে বললাম আমি এখনিিই দেশে যাব আপনে বাবস্থা করুন। কিছুক্ষন পর বস বলতেছেন আমি দেখতেছি। এরপর আমি নিজের রুমে এসে শুয়ে শুয়ে জীবনের হারানো দিনগুলি মনে করছিলাম আর ভুলের মাশুল হিসাবে এতো বড় সেক্টিভাই করতে হলো।

এরপর অনেক চেষ্টার পর ফ্লাইট সময় নির্ধারণ করা হলো বিকাল ৩.৩০মিনিট। অনেক অপেক্ষার পর বাংলাদেশে পুঁছলাম অনেকটার পাথরের মত।

এয়ারপোটে পুঁছে চাচাতো ভাই রিচিভ করে নিয়ে আসলো ঢাকা থেকে বাড়ি যাও্যার বাবস্থা হলো এম্বুলেসে। দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে ১০ঘন্টা পর পুঁছলাম বাড়িতে।

কিন্তু তখন সব কিছু ফাঁকা। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু কাঁদি নাই। মন কে অনেক শক্ত করেছি আর বার বার সেই হাদিসটা শরন করছি। আমি জানি সবাই অন্য কিছু ভাবতেছে। ভাবুক তাতে আ,আর কি আমি আল্লাহ তালার কাছে সব কিছুর ভার দিছি। আমি জানি আমি কি হারিয়েছি।

আমি যখন ছোট ছিলাম সবাই বলতো আমি নাকি মায়ের পাগল ছিলাম। মা যেখানে যাইতো আমি ও সেখানে। মাকে ছেড়ে কোন দিন একা থাকি নাই। আর যখনি একা থাকতে শুরু করলাম তখনি মাকে হারালাম। সবাই মজা করে বলতো বিয়ের পর নাকি আমি মাকে নিয়ে নিয়ে শুশুর বাড়ি যাব। কিন্তু এখন????????? আমি কি করবো?

বাড়ি যাও্যার পর কেউ আমার মাকে দেখতে দেই নাই। পরের দিন সকালে মাকে শেষ দেখা দেখলাম কিন্তু মা আমাকে দেখতে পেলো না। জানি মা আমাকে দেখছে কিন্তু মায়ের মমতা পেলাম না।  সবই আমার নিয়তি। হয়তোবা আল্লাহ এটাই ভাল মনে করছেন। আমি তাতেই আলহামদুল্লিলাহ।

তারপর মায়ের সকল আখেরী কাজ শেষ করে পুনুরাই ফিরে এলাম সেই অভিবাসে। যেখানে শুধুই কস্ট আর কস্ট।

এখন শুধু একটা ছন্দই মনে পরে বারবারঃ-
মা তুমি কি জিনিষ ,
বিশাল এ ভূবনে।
যখন দেখি তোমার মুখ,
দুঃখ থাকে না মনে।
মা তুমি অমর হয়ে থাক,
মোর জীবনের তরে।
ক্ষনিকের জন্য মা তুমি'
কাদাইও না মোরে।
তুমি যদি মোরে যাও মা,
কাঁদব দিবা  নিশি।
এ ভূবনে দেখব না আর,
তোমার মুখের হাঁসি।
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি,
এতিম হয়ে কাঁদব।
মা মা বলে তোমায়,
বারে বারে ডাকবো।
উত্তর তুমি দিবেনাতো,
থাকবে আমায় ভুলে।
নিজ গুনে ক্ষমা কর মা,
ছিলাম তোমার কোলে।

সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রেম আর ফুলের জীবন কাহিনী (তৃতীয় পর্ব)

দিনটি  ছিলো বুধবার।
তখন সকাল ৯টা, খালুর ডাকা ডাকিতে প্রেমের ঘুম ভাংলো।  ঝটপট উঠে গোসল করে রেডি হয়ে তারা একটা রেস্টরেন্টে নাস্তা করে বনানী অফিসে গিয়ে পোঁছে সকাল ১১টায়। এবং অফিসিয়াল সকল কাজ শেষ করে জানতে পারে যে রাতে তার ফ্লাইট। 

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে আসলো প্রেম সবার কাছে বিদায় নিয়ে চলে গেলো ইয়ারপোটে। 
ঠিক রাত ১টায় তারে নিয়ে উড়ল মালায়সিয়ান ইয়ারলান্স।

পরের দিন বৃহতপতিবার ভোর প্রায় ৪টায় লান্ড করলেন মালায়সীয়া ইয়ারপোটে । নতুন জায়গা নতুন আভাওয়া নতুন ভাষা । যাই ইয়ারপোট থেকে বের হইতে হইতে রাতে ৯টা বেজে গেলো। সেখান থেকে বের হওয়ার পর তাদের সবাইকে নিয়ে যাও্য়া হলো কাজের স্থানে।

শুরু হল প্রেমের জীবনের দ্বিতীয় স্টেপ কর্ম জীবন । সে জানে না জীবনে কি কি করতে হয় বাঁচার জন্য। মনে হয় জীবন যুদ্ধ শুরু তার।

প্রেমের সংগে ছিলো আরো ৯৫জন তাদের সবার সাথে তাকেও নিয়ে গেলে একটা প্লাস্টিক ফাক্টারীতে ইন্টার্ভিউ এর পর তার কাজ পরলো সেই ফাক্টারীর সব চেয়ে ভালো কাজ । এই জন্যই ভাল বলছি য়ে তার কাজের বেশি ভাগ সময়ই ফ্রি থাকতে পারে। তাতে প্রেম মহা খুশিই বলতে গেলে কারন সেতো মটে কাজে অভস্ত নই। 

কাজ করতেছে দিন যাচ্ছে দেখতে দেখতে ৩/৪ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর প্রেম একটা কল দিয়ে যানিয়ে দিল যে সে পোচেছে এবং ভালো আছে। কিন্তু সময় এবং সযুগে না হওয়াতে  তার জানের জানে ফুলের কোন খবর নিতে পারলো না । মনটা খারাপ হলে করার কিছু নাই কারন তার কস্টের জীবন শুরু হলো। 

"কথাই বলে না যায় দিন ভাল যায়"

দেখতে দেখতে চলে গেলো একটা মাস এর মধ্যে প্রেমের কাজেরে সমস্যা জন্য কাজ বদল হয়ে গেলো এক স্থান থেকে আরেক স্থান তাই অনেক বাস্থতার কারনে যোগাযোগ করতে পারে না বাড়িতে বা তার জানের সাথে। এই এক মাসে মাত্র এক বার তার ফুলের সাথে কথা হইছে তাও অল্প সময়ের জন্য।

সময়ের তাগতে এক এর পর এক প্রেমের কাজ চেঞ্জ করতে থাকে। 
এর মাঝে মাঝে বাড়িতে এবং তার জানের সাথে কথা হয় কিন্তু অনেক বেশি তাও না একটু একটু করে। ধরতে গেলে মাসে একবার দুবার করে মাত্র। 

আজ  দেখতে দেখতে দুই বছর পার হতে চলছে প্রেমের প্রবাস জীবন , প্রবাসে যে এতো কষ্ট তা প্রেম স্বপ্নেও ভাবে নাই কারন অভিবাস মানেই যেন কষ্টের পাহার যা বুকে নিয়ে থাকতে হই সব সময়। ইদানিং ফুলের সাথেও তার তেমন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে উঠে না এর কারন অনেক যা বলে শেষ করা যায় না। তবে হ্যাঁ মেন সমস্যা হলো কাজের। কিন্তু ফুল কি জানে যে প্রেমের জীবনে কিসের ঘনঘাটা, কিসের জন্য সে এতো পরিবর্তন ?


আমার জীবনের আন সাকসেস (এডসেন্স নামের সোনার হরিণ)


এক বার নই দুবার নই। 
গুনে গুনে তিন বছরে ৫বার ফেল করলাম।

গত ৬মাস চেষ্টার পর গত সপ্তাহে পেলাম সেই এডসেন্স নামের সোনার হরিণ কিন্তু টিকাইতে পারলাম না । 
মাত্র ৫দিনেই ইন্তিকাল করলো। 

কি আর করার আবার শূন্য থেকে শুরু করে গতকাল  আবার একটা একাউন্ট পাইছি জানিনা কত দিন সেটা নিয়ে চলতে পারবো? 

জিবনে আশা নই প্রতাশা আছে যে এক দিন না এক দিন আমি নিশ্চয় সাকসেস হবো। কারন ১০জনে পারলে আমি কেন পারবো না?

দেখি না কি হয়।  :)

রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৬

অকালের বিয়ে মানেই যেন একটা অন্য রকম।

আমার বয়স যখন মাত্র ষোল বছর।তখন বিয়ে করি এক তের বছরের মেয়েকে। বাবা মার ইচ্ছেতেই বিয়ে হয়েছিল আমাদের। নিজেই লুঙ্গি সামলে রাখতে পারতামনা,রাতে ঘুমুলে গিট্টু দিতাম।অথচ সেই আমি তখন চেষ্টা করতাম ছোট্ট বউটাকে শাড়ি পরিয়ে দিতে।
নিজেই পেতামনা পকেট খরচের টাকা,অথচ বউয়ের জন্য আচার কিনতে হত।
খুব সুন্দর ছিলো দিনগুলি।ভালবাসা যেন অজান্তেই তৈরি হয়েগেল মনের ভিতর।প্রথম কেউ বলতে সেই ছিল আমার জীবনে।
সে ছিল খুব ছোট,হাসত খেলত।বাবা মা তার কান্ড দেখে হাসতেন। আমিও হাসতাম এইভেবে যে এটাই আমার বউ। ছোট্ট মিষ্টি সোনা বউ।সারাদিন হৈহুল্লোড়ে থেকে যখন রাতে সে বলত মাথা ব্যাথা করছে,মাথা টিপে দিতাম।পা দুটোও টিপে দিতাম।আমার বউতো, আমিই তো তারসব।আজ অবুজ কালতো বুঝবেই। তখন আরোবেশি ভালবাসবে আমাকে।
,
দিন যেতে থাকলো।বউয়ের বয়স যখন সতের,এখন আর সে হাসেনা খেলেনা।এখন
অনেক কিছুই বোঝে সে।শ্বশুর বাড়িতে গেলে একাকি থাকতাম আমি। সে আমায় বলত, তুমি আমার সাথে বেড়ুবেনা,আমার লজ্জা করে। কিছু বলতামনা,কষ্ট লুকিয়ে রাখতাম। আসার সময় বায়না ধরত তাকে রেখেযেতে। রেখে আসতাম।বাড়ি এসে প্রতিদিন ফোন করতাম তাকে।প্রতিটা কলই ওয়েটিং থাকত।মেসেজ গুলোর উত্তর না পেয়ে লজ্জায় আর মেসেজ করতামনা। তিনমাস পর যখন শ্বশুরবাড়ি যেতাম বউয়ের
প্রথমবাক্য ছিলো তিনদিন থেকে চলেযাবে। রাতের আধারে চুপিচুপি তার ফোনটা অনকরে দেখতাম প্রতি মিনিটে কারো প্রেমময় মেসেজে চাপা পরেছে আমার মেসেজগুলো। কষ্ট পেতে থাকলাম আমি।সবাইকে বলে শাসন করাহল তাকে।সেই থেকেই শুরু।
,
তারপর আমার বউয়ের বয়স যখন উনিশ,আমার বয়স তখন বাইশ।একটা মেয়ে এল কোলজুড়ে। আনন্দের সীমা ছিলনা আমার,আমার পরিবারের। তারপর মেয়ের বয়স যখন মাত্র ছমাস।আধো আধো দুএকটা শব্দে ডাকে আমার মেয়ে।যখনি বাবা বলে ডাকদিত কলিজা যেন ঠান্ডা হয়েযেত আমার।বউ তখন অন্য দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত।তখনো ফোনে কথা বলত বুঝতাম।আমার প্রতি দুর্ব্যবহারই সেটা প্রমাণ করেদিত।কিন্তু মেয়ের কথাভেবে কিছু বলতামনা। তারপর এলো সেদিন,যেদিন আমি কেঁদেছিলাম।স্বামী হয়ে তার দুটো পা জড়িয়ে ধরেছিলাম।ভিক্ষে চেয়েছিলাম মেয়ের মা ডাকার অধিকার।কিন্তু সে আমাকে ত্যাগকরে চলেগেল।৩ টা ৩৮ মিনিটে সই
করলাম ডিভোর্স পেপারে। সে নতুন ভালবাসার মানুষকে নিয়ে চলেগেল অনেক দুরে।মাহারা হল আমার মেয়েটা।
,
আমার মেয়ের বয়স যখন দশবছর।নিজহাতে তাকে আমি শাড়ি পরাতাম।ও যখন ছোটতে কাঁদত মারজন্যে ওকে কোলে তুলে নিজেও কাঁদতাম।মার অভাব কি কখনো পুরনহয়?।নিজের মাকে ডাকতে গিয়ে কান্না আসত আমার।আমার মেয়ের যে মা নেই।ও ডাকবে কাকে?
রান্না করতাম,সাজিয়ে দিতাম নিজে।আমি আর মেয়ে এই আমার দুনিয়া। এই আমার পৃথিবী। আর বিয়ে করিনি। কারন ভালবাসতাম তাকে,তখনো এখনো। মেয়ের বিয়ের কথা চলছে।আমি আবার একাহয়ে যাবো।মেয়ের অনিচ্ছা সত্বেও ওর মাকে খবর দিয়েছি। কাল এসেছিলো সে।অনেকদিন পর দেখলাম তাকে।ছমাস তিনদিন, বাইশ মিনিট কম চব্বিশ বছর পরদেখলাম।কল্পনায় ভেবেছিলাম এখনো সেই ছোট্টই আছে।কিন্তু নাহ,আমার মতই চুলে পাক ধরেছে ওর।দুটো ছেলের মা আজ ও। আমি সেদিন ভালোবাসার কাছে হারমেনে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেমন আছো?আজো কি তোমার মাথা, পা ব্যাথা করে? সে শুধু মাথা নেড়েছিল।কি বুঝিয়েছে তা দেখতে পাইনি। কারন চোখদুটো তখন জলে ভেজা ছিল।তাছাড়া বয়স তো আর আগের মতনেই।
কিন্তু আমার মেয়ে দেখা করেনি ওরসাথে।পর্দার আড়াল থেকেই একটা প্রশ্ন করেছিল আমার মেয়ে, আমার বাবার চব্বিশটা বছর ফিরিয়ে দিতে পারবেকি? যদি নাপারো তাহলে এসোনা কোনদিন।আমার বাবাই আমার মা।আমি প্রাউডফিল করি বাবা ডেকে।মা ডাকার কোন ইচ্ছেনেই আমার,,,,